আমিও তাকে খুব মিস করি—র্যাচেল লেখক: ঝেং ছুনফেং
লস অ্যাঞ্জেলেস না নিউ ইয়র্ক—কোন পথে যাবো? আমি বেছে নিয়েছিলাম লস অ্যাঞ্জেলেস। তারপর দেখলাম সেই অদ্ভুত কুৎসিত পোস্টারটি, তাতে আঁকা একটি বিশ্রী ডিজিটাল ক্যামেরা—“চলচ্চিত্রের প্রধান নারী চরিত্র নিয়োগ! চার হাজার ডলার!” ডিজিটাল সিনেমা? সত্যিই মজার ব্যাপার। আর তখনই তার সঙ্গে আমার দেখা।
সে হাস্যরসিক, রসিক, আত্মবিশ্বাসী—মনে হয়েছিল যেন তার মধ্যে এক ধরনের জাদু আছে। সে বলেছিল, আমাকে কখনোই বার্গার খাওয়াবে না—কী কৃপণ! তার পাশে ছিল এক সুন্দরী মেয়ে। সে তার প্রেমিকা নয়, তবু তাকে বেশ গুরুত্ব দেয়।
সে বলেছিল, সঙ্গীতনৃত্যের ছবি কখনোই মরে না। আমি বলেছিলাম, সে যেন আগুনের দিকে ছুটে যাওয়া এক পতঙ্গ। তার সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ আনন্দের, তার সঙ্গে নাচতে গিয়ে মনে হয়েছিল যেন স্বর্গে আছি।
সে বলল, “তুমি আমাকে হত্যা করতে পারো, কিন্তু হারাতে পারবে না।” আমি বললাম, লস অ্যাঞ্জেলেসে আসা ছিল আমার সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত। আমি ফিরে গেলাম টরন্টোতে। আমরা কি আবার দেখা করবো? নিশ্চয়ই করবো।
অনেকদিন তার কোনো ফোন আসেনি। ভাবলাম, হয়তো তার সিনেমা মুক্তি নিয়ে কোনো বাধা এসেছে। আমি তাকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। আমার শিক্ষকের মাধ্যমে আমি যোগাযোগ করলাম সিংহদ্বার কোম্পানির সঙ্গে। আমি বললাম, তার ডিজিটাল সিনেমা নিশ্চয়ই সফল হবে, তাকে বিশ্বাস করুন।
শেষমেশ সৌভাগ্য আমাদের দিকে হাসল। সে সফল হলো। তখন সে আমায় জিজ্ঞেস করল, আমি কি দেবদূত? আমি গর্ব করে বলেছিলাম, হ্যাঁ, আমিই।
চলচ্চিত্র মুক্তি পেতে চলেছে, অথচ আমাকে লুকিয়ে থাকতে হলো টরন্টোতে। সে ও সেই মেয়েটি একসঙ্গে গিয়েছিল প্রিমিয়ার দেখতে। কেন জানি, আমার হৃদয়টা খুব ব্যথা পেল। তার সিনেমা সারা পৃথিবীকে মাতিয়ে দিল। আমরা ছিলাম শিকাগোয়, এক জুটির মতো ঘুরে বেড়াচ্ছি, সিনেমা দেখছি।
এক জুটির মতো। সে ধরে নিয়েছিল সেই মেয়েটির হাত, তারা একসঙ্গে মধুরভাবে নির্ভর করছিল। সে চেয়েছিল আমি তার আত্মার বন্ধু হয়ে থাকি, কিন্তু আমি পারিনি। আমাকে তাকে ভুলতেই হবে। অথচ কেন যে এত কঠিন ভুলে যাওয়া!
তার আর কোনো ফোন আসেনি, আর কখনোই সেই মধুর “র্যাচেল” ডাকে জাগেনি ফোন। সে প্রমাণ করেছে সঙ্গীতনৃত্য চলচ্চিত্রের শক্তি, সে রেখেছে তার প্রতিশ্রুতি। আমি হাসিমুখে সহপাঠীদের বলি—“দেখো, সঙ্গীতনৃত্যের সিনেমা এখনো চলে!” আমি হাসতে হাসতে বলতে চাই—“ধন্যবাদ, ইয়াং।” কিন্তু কখনোই সেই নম্বরটি ডায়াল করা হয় না।
সে ধরা পড়েছিল পুলিশের হাতে। পাগলের মতো আমি ফোন করতে থাকলাম। সে বলল, “শুধু কাউকে মারধর করেছি।” আমি বললাম, কেন মারলে? কেন? কিন্তু আমার কী অধিকার আছে তাকে বাধা দেওয়ার? সে তখনো কথা বলতে চেয়েছিল সেই মেয়েটির সঙ্গে। আমি শুনতে পেলাম সে বলছে, “একটু অপেক্ষা করো,” কিন্তু আমি ফোন রেখে দিলাম।
আবার শুরু হলো সঙ্গীতনৃত্য চলচ্চিত্রের শুটিং। আমি শুনলাম, সেই মেয়েটি ফোনে বলছে, “আমি তোমাকে খুব মিস করি।” আমিও... আমিও তাকে খুব মিস করি।
———
তখন আমাদের কত কথা ছিল
সবকিছুই বলা যেত
তোমার চেয়ে আগে আমি ভালোবেসেছিলাম
তবু তা লুকিয়ে রেখেছিলাম মনে
পরে তোমাদের সম্পর্ক বদলাতে লাগলো
আমি আর কিছু বলতে চাইলাম না
সাক্ষাৎ আর সংগ্রামের পরে
আমি আজও তাকে ভুলতে পারিনি
কত বছর পেরিয়ে গেছে
হঠাৎ একদিন তুমি আমায় জিজ্ঞেস করলে
সেই সময়েও কি আমি তাকে ভালোবাসতাম?
আমি তো তাকেও খুব মিস করি, আমরাও একই
তার কাছেই পেয়েছিলাম ডানার ছোঁয়া
তখনকার সে, কেবল তোমার জন্য
সে ওড়া শুরু করলো
আমি তো তাকেও খুব মিস করি, কোথাও সে আছে
আমার লজ্জা কমেছে, তুমি হারিয়েছ কাঁধ
গ্রীষ্ম এখনো তাড়াতাড়ি চলে যায়
তবু স্মৃতিরা দীর্ঘ
তখন আমাদের কত কথা ছিল
সবকিছুই বলা যেত
তোমার চেয়ে আগে আমি ভালোবেসেছিলাম
তবু তা লুকিয়ে রেখেছিলাম মনে
পরে তোমাদের সম্পর্ক বদলাতে লাগলো
আমি আর কিছু বলতে চাইলাম না
সাক্ষাৎ আর সংগ্রামের পরে
আমি আজও তাকে ভুলতে পারিনি
কত বছর পেরিয়ে গেছে
হঠাৎ একদিন তুমি আমায় জিজ্ঞেস করলে
সেই সময়েও কি আমি তাকে ভালোবাসতাম?
আমি তো তাকেও খুব মিস করি, আমরাও একই
তার কাছেই পেয়েছিলাম ডানার ছোঁয়া
তখনকার সে, কেবল তোমার জন্য
সে ওড়া শুরু করলো
আমি তো তাকেও খুব মিস করি, কোথাও সে আছে
আমার লজ্জা কমেছে, তুমি হারিয়েছ কাঁধ
গ্রীষ্ম এখনো তাড়াতাড়ি চলে যায়
তবু স্মৃতিরা দীর্ঘ
এখনো মনে পড়ে, সেই বছরে আমরা একসঙ্গে স্বপ্ন দেখেছিলাম
তারকারা আমাদের ঠকিয়েছিল
তবু সে ছিল আমাদের শেখার পাঠ
প্রাপ্তবয়স্ক হবার পরীক্ষার ফল
আমি তো তাকেও খুব মিস করি, আমরাও একই
তার কাছেই পেয়েছিলাম ডানার ছোঁয়া
তখনকার সে, কেবল তোমার জন্য
সে ওড়া শুরু করলো
আমি তো তাকেও খুব মিস করি, কোথাও সে আছে
আমার লজ্জা কমেছে, তুমি হারিয়েছ কাঁধ
গ্রীষ্ম এখনো তাড়াতাড়ি চলে যায়
তবু স্মৃতিরা দীর্ঘ
আমরা সবাই একই—