পঞ্চাশতম অধ্যায়: আমি এসেছি রোগ সারাতে
裘 প্রবীণ মনের মধ্যে কী ভাবনা চলছিল, সে বিষয়ে সু নান চিয়াও কিছুই জানত না। কিন্তু আজ যখন সে কিউ ওয়ানফুকে দেখল, সেই বৃদ্ধা এত অশান্তিকর ঘটনা তাঁর কাছে প্রকাশ করেননি, বরং চুক্তি অনুযায়ী নতুন পণ্যও গ্রহণ করেছিলেন, এতে বোঝা যায় কিউ ওয়ানফু নিজেও বিরল স্বভাবের এক প্রবীণ।
দু’জনে খাওয়া শেষে, সু নান চিয়াও হাত ঝেড়ে উঠে দাঁড়াল এবং ঝৌ মিনকে বলল, ‘‘বড়ভাবি, আমার সঙ্গে একটা জায়গায় চলো।’’
ঝৌ মিন খানিকটা হকচকিয়ে গেল, ‘‘কী, আমরা তো সোজাসুজি বাড়ি ফিরব বলেছিলে, এখন কোথায় যাচ্ছ?’’
সু নান চিয়াও হেসে বলল, ‘‘চলো, তোয়ার খোঁজে যাব।’’
ঝৌ মিন কিছুটা অবাক হয়ে বলল, ‘‘এ তোয়ার আবার কী?’’
সু নান চিয়াও ইচ্ছা করেই কিছুটা রহস্য রাখল, ঝৌ মিনের দিকে চোখ টিপে বলল, ‘‘চলো, গেলে দেখবে।’’
যেহেতু গুজব ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে এবং এতে তার স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে, তাই আর চুপ করে থাকা চলে না।
সু নান চিয়াও সম্পূর্ণ অবাক ঝৌ মিনকে নিয়ে শহরের সবচেয়ে ভালো চিকিৎসালয়ে পৌঁছাল।
সে কাউন্টারে গিয়ে দাঁড়াতেই, ভেতর থেকে গোলাপি গালওয়ালা ছোট্ট ছেলেটি এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘‘আপনি কি চিকিৎসা করাতে এসেছেন, নাকি ওষুধ নিতে?’’
ছেলেটির বয়স খুব বেশি নয়, গোলগাল, দেখলেই মনে হয় গাল টিপে দিতে ইচ্ছে করে। সু নান চিয়াও সে ইচ্ছা দমন করে কোমল হাসি দিল, ‘‘ছোট ডাক্তার, একটা কথা জানতে চাচ্ছি।’’
ছেলেটি ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল, ‘‘এখন খুব ব্যস্ত, কিছু জানতে চাইলে বাইরে ভিখারিদের জিজ্ঞেস করুন না।’’
সু নান চিয়াও সরাসরি বিষয়বস্তুতে এল, ‘‘তোমাদের এখানে এমন কোনো কঠিন ও জটিল রোগ আছে কি, যেটা মিটছে না?’’
ছেলেটি কিছুটা আগ্রহ দেখাল, একবার সু নান চিয়াওয়ের দিকে তাকাল, দেখে সে কোনো ডাক্তার নয়। গম্ভীর সুরে বলল, ‘‘তুমি তো ডাক্তার নও, এসব জিজ্ঞেস করছ কেন?’’
সু নান চিয়াও হেসে বলল, ‘‘কে বলেছে শুধু ডাক্তাররাই রোগ সারাতে পারে? আমি জানতে চাইছি, শহরে কোনো ঘরের মেয়ে কি ত্বকের অসুখে ভুগছে?’’
‘‘আমি যদি সারাতে পারি, তবে বলে দেব আমি তোমাদের চিকিৎসালয়ের লোক। আর পারি না, তার দায় আমি নেব। কেমন?’’
ছেলেটির কৌতূহল চূড়ান্তভাবে উসকে উঠল, আসলে এমন জটিল রোগ এখানে কম নয়, আর প্রায়ই রোগীরা আসে কিন্তু পুরোপুরি আরোগ্য হয় না, এতে অনেক দুশ্চিন্তা হয়।
সে বলল, ‘‘আমাদের চিকিৎসালয়ে এমন কোনো রোগ নেই, যা দেখা হয়নি। তুমি যা বলছ, শহরে এমন অনেকেই আছে।’’
‘‘যেমন ধরো, লি পরিবারে মেয়ে, প্রতি বসন্তে তার মুখে দানাদার ফোঁটা ওঠে, সে ঘর থেকেও বের হয় না। আবার লিউ পরিবারের গিন্নি, গত দুই বছর ধরে মুখের চামড়া অকারণেই খসে পড়ে, কিছুতেই সারেনি, সারাবছর ঘর থেকে বের হয় না।’’
ছেলেটির কথা শুনে, সু নান চিয়াও বুঝল, প্রথমটি সম্ভবত এলার্জি, দ্বিতীয়জনই তার লক্ষ্যে থাকা ব্যক্তি।
ছেলেটি কোনো রাখঢাক না রেখে আরও কয়েকটা উদাহরণ দিল, অবশেষে নতুন রোগী আসায় কথা থামিয়ে কাজে চলে গেল। সু নান চিয়াও টেবিলে কয়েকটা পয়সা রেখে এল।
সে আরও দিতে চেয়েছিল, কিন্তু হাতে আর বেশি টাকা ছিল না। সেই কয়টা টাকায় একটা মিষ্টি কিনে খাওয়া যায়।
ছেলেটি যে উদাহরণগুলো দিয়েছিল, সেগুলো থেকে সু নান চিয়াও বেছে নিল, ঠিক করল, এবার লিউ পরিবারের দিকে যাওয়া যাক। লিউ পরিবার বিদ্যাচর্চার জন্য প্রসিদ্ধ, গৃহস্বামী শুনেছি রাজধানীর সরকারি কর্মকর্তা, বহু বছর বাড়ি ফেরেন না, তবে প্রতি বছর অনেক কিছু পাঠান।
ঝৌ মিন শুনে কিছুটা ভয় পেল—সু নান চিয়াও লিউ বাড়িতে দরজা ঠকঠকাতে চাইছে! যদি লিউ পরিবারের গিন্নির রোগ সারাতে না পারে, তবে কি বাড়ির লোকের সঙ্গে শত্রুতা বাঁধবে না?
সু নান চিয়াও স্বাভাবিকভাবেই ঝৌ মিনের দুশ্চিন্তা বুঝতে পারল, শান্ত স্বরে বলল, ‘‘বড়ভাবি, ভয় পেয়ো না, আমি যদি দরজা কড়া নাড়ি, তার মানে আমি আত্মবিশ্বাসী। কোনো ঝুঁকি নেব না।’’
তবুও ঝৌ মিন চিন্তিত, ‘‘আমাদের তো একটা ওষুধের বাক্সও নেই, আমাদের দেখলেই কেউ ভাববে না আমরা চিকিৎসক… আর ধরো আমরা ভিতরে ঢুকলাম, তবুও কি সত্যিই সারাতে পারব?’’